গ্যাস সমস্যা কিছু সমস্যা ও কিছু সমাধান কিছু পরামর্শ

গ্যাস সমস্যা কিছু সমস্যা ও কিছু সমাধান কিছু পরামর্শ

গ্যাস সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করতে হবে নিম্নউপায়েঃ

  • তেলে ভাজা খাবার, রেস্টুরেন্টের খাবার, পোলাও-বিরিয়ানী, প্যাকেটজাত খাবার, সয়াবিন তেলে রান্না করা খাবার বাদ দিতে হবে।
  • খাবার খাবেন নিয়ম করে একই সময়ে ।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।
  • খাবার ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া দরকার।
  • শাক-সব্জি বেশী বেশী করে খাওয়া প্রয়োজন।
  • কাঁচা খাবার (সালাদ) খাওয়া চাই।
  • টক দই খাওয়া যেতে পারে।
  • সকালে উঠে ২-৩ গ্লাস খালি পেটে পানি খান। অবশ্যই ব্রাশ করার আগেই। লাভ কী হবে? রাতে ঘুমানোর ফলে আমাদের লালা জমে যা পেটে গিয়ে এক ধরনের এন্টি অক্সিডেট এর কাজ করে! আর আপনার ব্রেইন সজাগ হতে সহায়তা করে। প্রতিদিন সকালে শুধু গ্লাস পানি পান বমি ভাব, গলার সমস্যা, মাসিকের সমস্যা, ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যা, আর্থাইটিস, মাথা ব্যথা ইত্যাদি অসুখ কমাতে সহায়তা করে!

চিকিৎসাঃ ০১

অন্যের ক্ষেত্রেও কাজ হবে কিনা জানি না । তবে পেটে গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, মলদ্বার দিয়ে রক্ত পরা ইত্যাদি পেটের রোগে ‘সোনামূখী পাতা’ রাতে ১ চিমটির কিছু বেশী ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে ১ গ্লাস ২/৩ দিন খেলে রেজাল্ট পাবেন । কশ বের হওয়া পানি একটু বিশ্বাধ হলেও খেয়ে নিতে হবে । পেট পরিষ্কার করার দারুন এক ঔষধ এটি । আর নিয়ম করে অন্তত সপ্তাহে ১ বার খেলে পায়খানার যন্ত্রনায় ভূগবেন না বুঝে রাখবেন।

পাতাটি কোথায় পাবেন? পাতাটি বাজারে পাবেন যারা কর্পূর, তালমিছরি, তোকমা ইত্যাদি বিক্রী করে তাদের নিকট । দাম ১০০ গ্রাম ৫০ টাকা হবে হয়ত । ১০০ গ্রাম ১ জনের ১ বছর যাবে তবে ৫০ গ্রাম কিনতে অনুরোধ করবো কারন শুষ্ক হওয়ায় পরিমানে অনেক । ফলাফল জানাতে কমেন্টে লিখুন।

চিকিৎসাঃ ০২

পেট পরিষ্কার রাখবেন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করবেন, রাত জাগবেন না গ্যাস বেড়ে যাবে এতে, হাঁটা চলা করবেন। তৈলাক্ত খাবার এ না বলুন। ইসুব গুলের ভূষি ২চামুচ ১গ্লাস পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে খেয়ে খেলবেন। আর ওষুধ খেতে চাইলে শুরুতে Maxpro20 খালি পেটে ২বেলা করে ১মাস খেয়ে দেখতে পারেন।

জিজ্ঞাসাঃ ০১


গরম পানি খেলে পেটের গ্যাস ভালো হয়ে যায়?


হ্যাঁ ভালো হয়। আপনার কী পেট খারাপ হয় বাড়ে বাড়ে? হজমে আপনার সমস্যা হয়? এক্ষেত্রে আপনি গরম পানি খেতে পারেন নিয়মিত । উপকার পাবেন। হজম শক্তি বাড়বে। খাবার সহজে হজম হবে। পেটের সমস্যাও সেড়ে যাবে আস্তে আস্তে।

জিজ্ঞাসাঃ ০২


দীর্ঘদিন নিয়মিত গ্যাসের ওষুধ খেলে কী ক্ষতি হয়?

হ্যা নিয়মিত একটানা গ্যাসের ওষধ খেলে ক্ষতি হতে পারে। যেমন: হাঁড় ক্ষয়, কোষ্ঠকাঠিন্য বা এ জাতীয় সমস্যা ইত্যাদি। আপনি যে ওষুধই খান সেটা গ্যাসের লোসেকটিল হোক বা প্যানটোনিক্স বা অন্য কোন, আপনাকে অবশ্যই ডক্টরের পরামর্শ মেনে খাবেন।

জিজ্ঞাসাঃ ০৩

আমার পেটে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস হলে কোন প্রকার খাবার খাওয়া উচিত হবে না?

দাওয়াত খাওয়া হলে পেটে কিছুটা অস্বস্থি প্রকাশ পায়। এটা মাঝে মাঝে হতে তেমন চিন্তার কিছু নেই। তবে কারও যদি এই সমস্যা হয় নিয়মিত হয় তবে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ রইল। আর যেসব খাবারে এই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে সেগুলোর না খাওয়ার অনুরোধ করছি।

জিজ্ঞাসাঃ ০৪

পেটের গ্যাস কমাতে ভিনেগার কতটুকু উপকারী?


পেটের গ্যাস হচ্ছে মূলত গ্যাসট্রিক। আমরা যখন খাবার খাই তখন খাবারকে পরিপাক করার জন্য পাকস্থলি থেকে HCl নামক এসিড নির্গত হয়। এবং এর পরেই পেপসিনোজেন ক্ষরিত হয়। HCl এর প্রভাবে পেপসিনোজেন সক্রিয় পেপসিনে পরিণত হয়। এটিও অনেকটা অম্লীয়। এর পর পরিপাক শুরু হয়। কিন্তু কোন কারনে, বিশেষ করে খাদ্য গ্রহনে অনিয়ম হলে HCl এর ক্ষরন ভারসাম্য হারিয়ে অনিয়মিত হয় এবং অপ্রয়োজনের সময় ক্ষরিত হয় আবার প্রয়োজনের চেয়েও বেশি ক্ষরিত হয়। ফলে এই এসিড ও অম্লীয় পরিবেশ পেটে গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। এটি থেকে রক্ষার জন্য এই এসিড প্রশমনের জন্য ক্ষারী খাদ্য দরকার। কিন্তু ভিনেগারও এসিডিক। এটি মূলত এসিটিক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবন।

কাজেই ভিনেগার কখনো গ্যাসের সমস্যা সমাধান করতে পারেনা। কারন উভয়ই এসিডিক। প্রশমিত করার ক্ষমতা নাই। তাই ভিনেগার বা এ ধরনের অম্লীয় জিনিসের পরিবর্তে আপনাকে ক্ষারীয় খাবার গ্রহন করতে হবে।

সবার ক্ষেত্রে এক নাও হতে পারে- কিছু খাবার আছে যা সাধারনভাবে “গ্যাস উৎপাদনকারী”। এগুলো চিনে রাখুনঃ

পেঁয়াজ
কাঁচা পেঁয়াজ খেলে পেট ফাঁপে বা পেটে গ্যাস হয় তা যেমন ঠিক, তেমনি রান্না করা পেঁয়াজে কিন্তু সেরকম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তাই কাঁচা পেয়াজ খেলে যারা অসুবিধা বোধ করেন, তাদের কাঁচা পেঁয়াজ না খাওয়াই ভালো।

চিনি

চিনি অনেকের পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। তাই সমস্যা হলে এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে।

শষ্যদানা

শষ্যদানা দেয়া রুটি খেলেও পেট ফাঁপতে পারে। তবে সেটা তখনই হয়, যখন রুটিটি একদম তাজা, অর্থাৎ ওভেন থেকে নামিয়েই সাথে সাথে খাওয়া হয়। তবে কিছুক্ষণ পর, অর্থাৎ দু’তিন-ঘণ্টা পরে খেলে আর কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

ক্রিম

কেকের ওপর একটু ক্রিম ছড়িয়ে দিলে কেকের স্বাদ বেড়ে যায় দ্বিগুণ। জার্মানরা কিন্তু এরকম লোভনীয় কেক খেতে ভীষণ পছন্দ করেন। তবে প্রোটিন আর ফ্যাট একসথে পেটে থাকতে তেমন পছন্দ করে না, ফলে অনেকের পেট ফাঁপতে পারে।

কিশমিশ

কিশমিশ শুকনো ফলের মধ্যেই পড়ে। মিষ্টি খাবারে দেয়া রান্না করা কিশমিস খেলে তেমন অসুবিধা হয় না। তবে শুধু কিশমিস খাওয়া কিন্তু কারো কারো পেটে গ্যাস হওয়ার কারণ হতে পারে।

কোমল পানীয়

বাজারে পাওয়া যাওয়া বিভিন্ন ধরণের কোমল পানীয় সহজেই পেট ফুলিয়ে দিতে পারে। আসলে পানীয়তে থাকা মিষ্টিই এর প্রধান কারণ। এ সব মিষ্টি পানীয় শুধু পেটই ফাঁপায় না, সেই সাথে ওজনও বাড়ায় অনেক তাড়াতাড়ি। তাই বিশেষজ্ঞরা এ সমস্ত পানীয় থেকে দূরে থাকতেই পরামর্শ দিয়েছেন।

বিভিন্ন সবজি

বাধাকপি, ফুলকপি, ক্যাপসিকাম, ব্রক্কলি, গাজরের মতো অনেক সবজি থেকেও কিন্তু পেটে গ্যাস হতে পারে। তবে তা যদি কাঁচা খাওয়া হয়। সিদ্ধ বা রান্না করা সবজি খেলে পেটে গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।

চুইংগাম

চুইংগাম চিবোনোর সময় পেটে অনেক বেশি বাতাস ঢোকে আর তা থেকেও অনেক সময় পেট ফাঁপতে পারে বা গ্যাস হতে পারে।

কফি

কফির ‘ক্যাফেইন’ অনেকেরই পেটে অস্বস্তির কারণ হয় এবং তা থেকেও পেট ফাঁপে। তবে কফি পানের ঠিক আগে বা পরপরই যদি ফল খাওয়া হয়, তাহলে সামস্যা আরো বেশি হয়।

শিম বা ডাল

বিভিন্ন ধরনের ডালে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, যা মাংসের বিকল্প হতে পারে। ডাল, শিম বা বিচি ভালো করে সিদ্ধ হলে এবং যথেষ্ট পানি থাকলে পেটে গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

মিনারেল ওয়াটার

মিনারেল ওয়াটারে থাকা কার্বোনিক অ্যাসিড পান করার পর অনেকেরই পেট ফাঁপে।

এছাড়া, আইসক্রিম, বিভিন্ন ধরণের ফাস্টফুড, বিভিন্ন ধরণের ফল যেমন কলা, নাসপতি, আঙ্গুর, জাম ইত্যাদি। পাউরুটি ও পাস্তা খেলেও গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।

মহান সৃষ্টিকর্তা আপনার এবং আপনার পরিবারকে সুস্থ করে তুলুক এই কামনায়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.